
মোবারক হোসাইন
বিয়ের আনন্দ শেষে স্বজনদের নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন কনের ভাই-বোন, মামা ও গাড়িচালকসহ চারজন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন নিহত ভাই-বোনের বাবা।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত প্রায় দুইটার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কর্ণফুলী ক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—কনের ভাই নিয়াজ মোর্শেদ (২২), ছোট বোন মিমতাহ (১৭), তাদের মামা ও ঈদগাঁও বাসস্টেশনের নুর জাহান প্লাজার মালিক মো. ফেরদৌস আলম ফিরোজ (৫৫) এবং মাইক্রোবাসচালক মো. মুন্না। নিহত ভাই-বোনদ্বয়ের বাড়ি ঈদগাঁও ইউনিয়নের উত্তর মাইজপাড়া এলাকায়, মামার বাড়ি পোকখালী ইউনিয়নের গোমাতলী এবং চালকের বাড়ি ইসলামপুর ইউনিয়নে।
জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার পর স্বজনদের নিয়ে মাইক্রোবাসটি ঈদগাঁওয়ের উদ্দেশে রওনা হয়। পথিমধ্যে কর্ণফুলী ক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজনের মৃত্যু হয়। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, দুর্ঘটনায় নিহত ভাই-বোনের বাবাও গুরুতর আহত হয়ে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন; তাঁর অবস্থাও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করে। এদিকে খবর পেয়ে ঈদগাঁও থানার সাবেক এএসআই ও পুলিশ কর্মকর্তা মহি উদ্দিন দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান এবং আহতদের চিকিৎসাসহ সার্বিক সহযোগিতায় পাশে থেকে সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করছেন।
এক রাতের ব্যবধানে বিয়ের আনন্দ বিষাদে রূপ নেওয়ার এ ঘটনায় পুরো ঈদগাঁও জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চারজন তাজা প্রাণের এমন আকস্মিক বিদায়ে শোকে স্তব্ধ নিহতদের পরিবার ও এলাকাবাসী।

