আসামী গ্রেফতারের পর তদন্তকর্মকর্তাকে সুজন গ্রুপের হুমকি চট্টগ্রাম টাইগারপাস রেলওয়ে কলোনীতে সাংবাদিক ও পরিবারের ওপর সশস্ত্র হামলা, হত্যার হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামের খুলশী থানাধীন টাইগারপাস রেলওয়ে কলোনী এলাকায় সাংবাদিক মর্জিনা আক্তার বেবি ও তার পরিবারের ওপর ধারাবাহিক সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর, শারীরিক নির্যাতন ও হত্যার হুমকির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক মর্জিনা আক্তার বেবি (৩০) অভিযোগ করে জানান, তিনি দীর্ঘ ৮ বছর ধরে স্থানীয় অপরাধ, অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশ করে আসছেন। তিনি জানান, সুজন গ্রুপ নামে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে একাধিক সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই তিনি ও তার পরিবার টার্গেটে পরিণত হন। অভিযোগে বলা হয়, গত ১৮ এপ্রিল এবং ২০ মে পৃথক দুটি ঘটনায় তার বাসার সামনে হামলা চালানো হয়। উক্ত ঘটনার পর ২৩ মে রাতে আমার বাসায় থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করতে খুলশী থানার কয়েকজন কর্মকর্তা আসলে আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তাদের ভিডিও ফুটেজ প্রদান করে সহায়তা করি। পরবর্তীতে সংবাদ প্রকাশের জেরে ২৫ মে বাসার বাইরে তাকে গতিরোধ করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেন। একই সময়ে তার মা ও বোনকেও হুমকি দেওয়া হয়, যার প্রেক্ষিতে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয় (জিডি নং-১৫৬৩, তারিখ: ২৬/০৫/২০২৬)। জিডি দায়ের করায়, গত ৬ জুন রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি লাঠি ও রড নিয়ে তাদের বাসার সামনে অবস্থান নেয়। এরপর সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর, পাথর নিক্ষেপ এবং পরে বাসায় ঢুকে সাংবাদিক ও তার মাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিষয়ে ভুক্তভোগী খুলশি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ১৩। এই মামলায় ১৭ জুন সুজন গ্রুপের জসিমকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে, জসিম জামিনে বের হয়ে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাসুদ কামাল ও এসআই আনোয়ারকে মুঠোফোনে হুমকি প্রদান করেন। যে বিষয়ে পুলিশে জিডি দায়ের করেছে উক্ত তদন্ত কর্মকর্তারা।
ঘটনার বিষয়ে মর্জিনা আক্তার বলেন, আমি এই সুজন গ্রুপের বিরুদ্ধে পুলিশ কমিশনার মহোদয়ের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। যা তিনি গুরুত্বসহকারে আমলে নিয়েছেন পাশাপাশি থানাকে সুজন ও তার বাহিনীকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন। জানা গেছে, বর্তমানে তাকে ও তার পরিবারকে নিয়মিত হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং কন্ট্রাক্ট কিলার নিয়োগের কথা প্রচারেরও অভিযোগ উঠেছে। এতে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং নিজ বাসায় ফিরতে পারছেন না। সাংবাদিকতার কারণে তাকে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি, নির্যাতন ও এলাকা ছাড়া করার চেষ্টা চলছে। তার পরিবারের সদস্যরাও বর্তমানে গৃহবন্দী অবস্থায় রয়েছেন বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, দ্রুত তদন্ত, দোষীদের গ্রেফতার এবং পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। আমি আবারও এই গ্রুপের বিরুদ্ধে আরেকটি জিডি দায়ের করি। জিডি নং- ৯৯৪।
এদিকে স্থানীয়ভাবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।

Related articles

২২ দিনে ৭৮৩ কিলোমিটার উপকূল পেরিয়ে ঐতিহাসিক অভিযান

২২ দিনে ৭৮৩ কিলোমিটার উপকূল পেরিয়ে ঐতিহাসিক অভিযান‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি...

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নান্দনিক চট্টগ্রাম গঠনের সাহসী পরিকল্পনার সিদ্ধান্ত

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নান্দনিক চট্টগ্রাম গঠনের সাহসী পরিকল্পনার...

আন্তর্জাতিক বিশ্বতান সংগঠনের ২০২৬-২০২৭ কমিটি বরণ

আন্তর্জাতিক বিশ্বতান সংগঠনের ২০২৬-২০২৭ কমিটি বরণ চট্টগ্রাম বিশেষ প্রতিনিধি :...

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে বাস খাদ্যে পড়ে শের-ই-বাংলা মেডিকেলের ২৪ শিক্ষার্থী আহত

নিজস্ব প্রতিবেদক কুমিল্লা: কক্সবাজারে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে...

ফেনীতে বাস উ’ল্টে কাস্টমস কর্মকর্তা নি’হ’ত, আ’হ’ত ১০

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফেনী: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর লালপোল এলাকায় যাত্রীবাহী বাস...